জাতীয় ফুটবল দলের স্প্যানিশ কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার খেলোয়াড় নির্বাচন ও পরিচালনা নিয়ে ফুটবল মহলে তীব্র সমালোচনা চলছে। ৩৮ জনের প্রাথমিক তালিকা প্রকাশের পর ৩০ জনকে ক্যাম্পে ডাকার সিদ্ধান্তকে অদূরদর্শী ও অসম্মানজনক বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক ফুটবলাররা।
সাবেক জাতীয় ফুটবলার জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু বলেন, "বাংলাদেশে কখনও দেখিনি দুই দফায় প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়। যাদের নাম তালিকায় আসে, তারা সাধারণত ক্যাম্পে অংশ নেন। এবার আটজনকে বাদ দিয়ে ক্যাম্প শুরুর আগে তাদের যাচাই করার সুযোগও নেওয়া হয়নি।"
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক জাহিদ হাসান এমিলিও একই সুরে কথা বলেন। "৩৮ জনের তালিকা পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই তো করা হয়েছিল। ক্যাম্পে সুযোগ না দিয়েই ৮ জনকে বাদ দেওয়া কেমন সিদ্ধান্ত? এটা খেলোয়াড়দের সম্মানহানির শামিল।"
সাবেক তারকা গোলরক্ষক ছাইদ হাসন কানন, যিনি এখন ফেডারেশনের সদস্য, বলেন, "প্রাথমিক দলে মাত্র ৩ জন গোলরক্ষক রাখা হয়েছে। সাধারণত আরও একজন রাখা হয় যেন প্রতিযোগিতা থাকে। এবার সেই সুযোগও দেওয়া হয়নি।"
জাতীয় দল কমিটির কয়েকজন সদস্যও কোচের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, "কোচ সিদ্ধান্ত নিলেও গণমাধ্যমে তালিকা প্রকাশ করে ফেডারেশন। দুই ধাপে তালিকা দিয়ে ফেডারেশনও অস্বচ্ছতার পরিচয় দিয়েছে।"
ব্রাদার্স ইউনিয়নের গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলাম রানা সামাজিক মাধ্যমে গোলরক্ষক জিকো ও ডিফেন্ডার ইয়াসিনের আগেভাগে বাদ পড়ার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, "আবাহনী পুরো লিগে মাত্র ১ গোল হজম করেছে। সেখানে ইয়াসিনের মতো ডিফেন্ডারকে ক্যাম্পের আগেই বাদ দেওয়া অবাক করার মতো।"
এই বিতর্কের পরও ফেডারেশনের নীতিনির্ধারকরা এখনো কোচের ওপর আস্থা রাখছেন। তবে ফুটবল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনাগুলো ভবিষ্যতে ফেডারেশনের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও সমন্বয়ের ঘাটতি আরও প্রকট করে তুলবে।
সামনের আন্তর্জাতিক সফরে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব কেমন পড়বে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে সাবেক খেলোয়াড় ও সমর্থকদের দাবি একটাই — স্বচ্ছতা আর খেলোয়াড়দের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করতে হবে, না হলে মাঠের বাইরে অস্থিরতা পারফরম্যান্সেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।